রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের করা পৃথক জেল আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে যেকোনও দিন হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
মামলার পটভূমি
এই ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে ৭ জুন রায় দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এই মামলায় রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন ট্রাইব্যুনাল।
আইনি প্রক্রিয়া
ওই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র ৯ জুন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১১ জুন পৃথক জেল আপিল করেন সোহেল ও স্বপ্না। গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য জেল আপিল দুটি সেদিন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে পাঠানো হয়।
হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মতো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে ১০ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
জেল আপিল গ্রহণ
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের করা পৃথক জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।



