বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর চরের মহিষের বাথান থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত চার রাখালকে পাওয়া গেছে। অপহরণের ছয় দিন পর মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাদের সিরাজগঞ্জের মতিন নৌঘাট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মুক্ত রাখালদের পরিচয়
বুধবার বিকালে সারিয়াকান্দি থানার ওসি আ ফ ম আসাদুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন। মুক্ত রাখালরা হলেন- নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনসার মণ্ডলের ছেলে ইউনুস আলী মণ্ডল (৫০), একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ মণ্ডলের ছেলে মফের মণ্ডল (৪০), লালপুর ইউনিয়নের চকবাদিকুল পাড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে মাসুদ মণ্ডল (৩২) এবং বিলবাড়িয়া মহড়কয়া গ্রামের মাজেদ মণ্ডলের ছেলে ফারুক মণ্ডল (৪০)।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও মামলা সূত্র জানা যায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া গ্রামের ইউনুস আলী মণ্ডল বগুড়ার সারিয়াকান্দির বোহাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলে মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তার বাথানে ১৬০টির বেশি মহিষ আছে। মহিষ দেখাশোনার কাজে তিনি আটজন রাখাল নিয়োগ করেন। রাখালরা গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের মতো মহিষের দেখাশোনা করে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে নৌকাযোগে বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত বাথানে প্রবেশ করে। তারা রাখালদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। সে সময় রাখালদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত চার রাখালকে নৌকায় তুলে নিয়ে যায়।
মামলা ও তদন্ত
এ ব্যাপারে অপহৃত ইউনুস আলী মণ্ডলের ছেলে সোহেল রানা সারিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সিরাজগঞ্জ নৌ থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছিল। অপহৃত রাখালদের স্বজনরা জানান, অপহরণকারীরা তাদের মুক্তির বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে।
মুক্তির পরবর্তী অবস্থা
সিরাজগঞ্জ নৌ থানার এসআই মোমরেজ জানান, তাদের তৎপরতার মুখে অপহরণকারীরা গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর মতিন ঘাটের কাছে অপহৃত চারজনকে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি জানান, রাখালরা নৌ থানায় রয়েছেন। তাদের বগুড়ায় আনার পর বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে। আদালতের নির্দেশের পর তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে।
তাদের মুক্তির খবরে স্বজনদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ নিয়ে রাখালদের ছেড়ে দিয়েছে কিনা সেই ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা কিছু বলতে পারেননি।



