স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, নির্যাতনের পর বাবার আত্মহত্যা, মামলা দায়ের
স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনে বাবার আত্মহত্যা, মামলা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) অপহরণ ও ধর্ষণের পর তার বাবাকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। বখাটেদের নির্যাতন ও হুমকির মুখে পড়ে ওই ছাত্রীর বাবা নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রোববার রাতে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম কিশোরীটি স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করাসহ অবৈধ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলছাত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণের নীলনকশা তৈরি করে।

গত ২৫ জুন সকাল ১০টার দিকে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্কুলের পাশের রাস্তা থেকে আসামিরা জোরপূর্বক তাকে একটি অটোচার্জারে তুলে অপহরণ করে ঠাকুরগাঁও রোডের কাছাকাছি নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে মেয়েটির জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি অজ্ঞাত আস্তানায় নিয়ে গিয়ে সাইফুল ইসলাম তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবার প্রতিবাদ ও হামলা

কৌশলে আসামিদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে সাইফুলের বাড়িতে যান ওই ছাত্রীর বাবা; কিন্তু আসামিরা উল্টো হুমকি দিয়ে বলে যে মেয়েটির স্বাক্ষর নিয়ে তারা বিয়ের জাল কাবিননামা তৈরি করেছে। আইনি পদক্ষেপ নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর গত ২ জুলাই বিকালে ওই ছাত্রীর বাবা বাড়ি থেকে বের হয়ে কাঁচারাস্তায় পৌঁছামাত্রই ওতপেতে থাকা আসামিরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রধান আসামি সাইফুল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ৩ নম্বর আসামি মানিক হোসেন পিঠ ও কোমরে মারাত্মক জখম করে। ওই ছাত্রীর বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাইফুলের ভাই ফরহাদ ওরফে কোম্পানী (৪০) তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় আসামিরা হুমকি দিয়ে বলে যে খুব শিগগিরই তার মেয়েকে জোর করে তাদের বাড়ি নিয়ে আসবে এবং বাধা দিলে লাশ গুম করে ফেলা হবে।

আত্মহত্যা ও মামলা

মেয়ের ওপর বর্বর নির্যাতন, নিজের পঙ্গুত্ব এবং আসামিদের প্রাণনাশের হুমকিতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ওই ছাত্রীর বাবা। অবশেষে সমাজ ও লম্পটদের এই পৈশাচিকতার বিচার না পেয়ে রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বসতবাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি ইন্সপেক্টর মো. বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।