জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদ্য ঘোষিত নির্বাহী কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এনিয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোনও সমাধান হয়নি।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা
সর্বশেষ রবিবার (৫ জুলাই) নয়াপল্টনে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহ-সভাপতি বলেন, “শীর্ষ দুই নেতার তর্কাতর্কিতে তাদের সভা পণ্ড হয়ে যায়।” যদিও বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি লিখেন দুই জনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে।
বৈঠকের ঘটনা
জানা গেছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে ৫ জুলাই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় সংগঠনটির কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সদ্য ঘোষিত ১৫১ সদস্যের কমিটিতে স্থান পাওয়া বিতর্কিতদের দায় একজন আরেকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এনিয়ে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ
নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে নিস্ক্রিয় থাকা সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহর আগের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চান যুবদলের সভাপতি মুন্না। এসময় সাধারণ সম্পাদক নয়নও নিষ্ক্রিয় মো. কামরুজ্জামান, শামসুজ্জোহা সুমন ও মনিরুল ইসলাম সোহাগের বিগত আন্দোলনে ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন সাধারণ সম্পাদক নয়ন।
সংগঠনে অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলার জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ একে-অপরকে দোষারোপ করেন। এর বাইরেও বেশ কিছু নেতার পদ নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে বৈঠক স্থগিত করা হয়।
সাধারণ সম্পাদকের ব্যাখ্যা
তবে এই বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দেন যুবদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। সোমবার (৬ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডিতে তিনি লেখেন, “আবদুল মোনায়েম মুন্না ভাই আমার দীর্ঘকালের পরীক্ষিত সহযোদ্ধা ও আপনজন। জাতীয়তাবাদী যুবদলের বর্তমান কমিটি ঘোষণার পর আমাদের দুজনের মাঝে যে আন্তরিকতা, সমন্বয় ও বোঝাপড়া, ততোধিক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক— এর উদাহরণ বিরল।“একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের মাঝেও কোনও বিষয়ে মতানৈক্য হতে পারে। দ্বিমতই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সৌন্দর্য্য। যথাযথ বোঝাপড়ার মাধ্যমে বাকি পথটুকু চলতেও আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।”
রবিবারের সভাটি মুলতবি করে আবদুল মোনায়েম মুন্না ও নুরুল ইসলাম নয়ন এক সঙ্গেই পার্টি অফিসের নিচে নেমে পরস্পর বিদায় নিয়েছে জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সমন্বয় ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে পথ চলতে বদ্ধপরিকর।”



