অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টারা তাদের দেড় বছরের মেয়াদকালে সরকারি তহবিল থেকে চিকিৎসা বাবদ কোটি টাকা পেয়েছেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রেকর্ডে দেখা গেছে। সর্বোচ্চ ৮১ লাখ ৯১ হাজার টাকা পেয়েছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন, যা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল।
সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় যাদের
হৃদরোগে আক্রান্ত খালিদ হোসেন সরকারের অনুমোদন নিয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা করান। তিনি গত বছর শেষের দিকে এবং এ বছরের শুরুর দিকে দুইবার থাইল্যান্ড যান এবং সেখানে অস্ত্রোপচার করান। প্রথমবার তার সঙ্গে একজন চিকিৎসক গিয়েছিলেন, দ্বিতীয়বার তার মেয়ে ও জামাই সঙ্গী হন।
খালিদ হোসেন বলেন, 'এখনও কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছি, কিন্তু চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল বলে যেতে পারছি না।' তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বাংলাদেশে মাউন্ট এলিজাবেথের মতো একটি হাসপাতাল তৈরি করা যায়নি। 'যদি দেশে মানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে মানুষকে বিদেশে এত টাকা খরচ করতে হতো না। এটা আনন্দ ভ্রমণ নয়,' বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা পেয়েছেন বিদেশে চিকিৎসার জন্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তার জটিল রোগ শনাক্ত না হওয়ায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন। 'আমি সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। সরকারের অনুমোদন নিয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়েছি। তিনবার সেখানে চিকিৎসা নিই,' বলেন তিনি।
অন্যান্য উপদেষ্টার ব্যয়
সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন পেয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা, সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পেয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা। সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফৌজুল কবির খান পেয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা, সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা, সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা পেয়েছেন।
সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ টাকা, সাবেক শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ৩১ হাজার ৫২ টাকা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান ২১ হাজার ৮০০ টাকা এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত উপদেষ্টা শেখ মঈনুদ্দিন পেয়েছেন ৪ হাজার ১৬০ টাকা।
টিআইবির মতামত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে পেতে পারেন, যার মধ্যে প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসাও অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট মাসিক বা বার্ষিক চিকিৎসা ভাতা নয়।
'সরকার অসুস্থতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় বিল ও ভাউচার জমা দেওয়ার পর চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করে। যদি সহায়ক কাগজপত্র ছাড়া টাকা নেওয়া হয়, তবে তা অনিয়মিত। যারা টাকা পেয়েছেন এবং যারা অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করেছেন, তারা দায় এড়াতে পারেন না,' বলেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানান এবং চিকিৎসা ব্যয় অনুমোদন ও বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেন।



