দিনাজপুরে আড়াই মাস ধরে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা নেই, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা
দিনাজপুরে আড়াই মাস সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা নেই, ভোগান্তি

দিনাজপুর আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে আড়াই মাস ধরে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। জমির রেকর্ড সংশোধন, মামলার শুনানি ও অন্যান্য সেবা বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই হতাশ হয়ে ফিরছেন তারা।

আড়াই মাস ধরে শূন্য পদ

তিন মাস আগে দিনাজপুর আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বরাবর জমির রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছিলেন আরিফ হোসেন (৩৮)। এরই মধ্যে দুবার শুনানির দিন ধার্য করা হলেও কার্যালয়ে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা না থাকায় শুনানি হয়নি। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা ও মৎস্যচাষি আরিফ হোসেন বলেন, ‘বড় স্যার নাই, শুনানি হয়নি। আসি আসি ঘুরে যাছি।’

সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের কেউ এসেছেন মাঠ জরিপের চূড়ান্ত নথিতে দাগ, খতিয়ান নম্বরের ভুল সংশোধনের আবেদন করতে, কেউ এসেছেন ৪২–এর (ক) ধারায় শুনানিতে হাজিরা দিতে। কিন্তু সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের ঘটনা ও বদলি

এর আগে ২৬ এপ্রিল আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে রিভিউ শুনানির রায়ের অনুলিপি পেতে দেরি হওয়ায় এক সেবাপ্রত্যাশী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার টেবিলে ফাইলপত্র ছুড়ে মারেন। এ সময় ওই সেবাপ্রত্যাশীর সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজনের ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী নূরুল আমিন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ–ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা করেন। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন।

ওই ঘটনার পর ৫ মে তৎকালীন আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলামকে জামালপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে পরিচালক পদে বদলি করা হয়। তার পর থেকেই শূন্য সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার পদ। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রেহেনুমা তারান্নুম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ

দিনাজপুর সদর উপজেলার বালুবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রেকর্ডে নাম সংশোধনের আবেদন করেছি। প্রায় দেড় মাস হয়ে গেল। ছোট একটা কাজ। কিন্তু শুধু ঘুরতেছি। এর আগে বলছিল ঈদের আগে হবে। আজকে বলতেছে জুলাইয়ের আগে হবে না।’

এদিকে আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণসহ নানা অভিযোগ তুলছেন সেবাপ্রত্যাশীদের অনেকে। কার্যালয়ে সারাক্ষণই দালাল চক্রের ভিড় লেগে থাকে। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন দালাল চক্রের সদস্যরা। কার্যালয়ের অধস্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন ও তদবির করেন তারা। প্রথমবার শুনানি শেষে বাদী রায় পেলে বিবাদী আপিল করলে শুনানি শেষে আবার রায় উল্টে যায়। এ ধরনের ঘটনায় প্রায়ই কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

দিনাজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা জান্নাতুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস ধরে রেকর্ড সংশোধনীর কাজে ঘুরছি। নোটিশ দেয় কিন্তু শুনানি হয় না। আজকাল বলে ঘোরায়। স্যার থাকিলেও পাইসা ছাড়া কোনো কাম হয় না।’

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

সেবাপ্রত্যাশীদের সেবা না পাওয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, ‘জেডএসও (জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার) স্যার নেই। আমি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। অফিসের রুটিন কাজ ব্যতীত শুনানি ও মামলাসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ স্থগিত আছে। কবে নাগাদ জেডএসও পদায়ন করা হবে এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে যেহেতু দিনাজপুর একটি বড় জোন, হয়তো দ্রুততার সঙ্গেই জেডএসও পদায়ন হবেন।’