নওগাঁর বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে চীনা পর্যটককে এক টিকটকারের হয়রানির ঘটনা বাংলাদেশের পর্যটন খাতের নানা সমস্যা সামনে এনেছে। গত ২২ জুন আব্দুল মাবুদ নামের ওই টিকটকারকে আটক করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এর আগে, গত ৮ মে নাটোরের গ্রিন ভ্যালি পার্কে শতাধিক টিকটকারের অনুষ্ঠানে দুই বিদেশি কর্মীকে ‘পর্নস্টার’ বলে কটূক্তি করা হয়। ৯ মে পার্ক ম্যানেজার ওয়াজেদুর রহমান মামলা করেন এবং ১০ মে ভোরে আমিনুল ইসলাম ও রাসেল ইসলামকে আটক করা হয়।
নিরাপত্তা ও হয়রানি: বিদেশি পর্যটকদের প্রধান বাধা
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনা বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে বড় বাধা। পর্যটনকেন্দ্রে হয়রানি, চুরি-ছিনতাই ও মারধরের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি শিবলুল আযম কোরেশী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার জন্য বছরের পর বছর আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না।'
ভিসা জটিলতা ও অবকাঠামো: আরও বড় চ্যালেঞ্জ
শিবলুল আযম কোরেশী আরও বলেন, 'বাংলাদেশে এখনও ই-ভিসা চালু হয়নি। ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বিমানবন্দরে তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।' এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণে তিন জেলার অনুমতি প্রয়োজন, যা বিদেশিদের নিরুৎসাহিত করে। হোটেল ও খাওয়ার উচ্চমূল্য, নিম্নমানের সড়ক ও পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাবও পর্যটক কমার কারণ।
পরিসংখ্যান: ৩০ বছরে নগণ্য প্রবৃদ্ধি
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে বিদেশি পর্যটক ছিলেন ১ লাখ ৫৬ হাজার। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার হয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নগণ্য। পর্যটন খাত জিডিপির মাত্র ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখে। ৩০ বছরে মোট প্রায় ৮৬ লাখ বিদেশি পর্যটক এসেছেন।
সাতটি প্রধান সমস্যা
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা সাতটি কারণ চিহ্নিত করেছেন: অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আকাশপথের সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক প্রচারের অভাব, নিরাপত্তা নিয়ে আস্থার সংকট, উচ্চ ব্যয়ে নিম্নমানের সেবা, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং তথ্য ও দক্ষ জনবলের অভাব।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অবস্থান
ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ফুয়াদ সাকিব বলেন, 'বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বগুড়ায় এক বিদেশিকে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।'
ট্যুরিজম বোর্ডের আশাবাদ
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর উফ বলেন, 'সমস্যা ও সমাধানের পথ দুটোই আমাদের জানা। আমরা কাজ করছি। আশা করছি, পর্যটন খাত আরও উজ্জ্বল হবে।'



