মেডিকোলিগ্যাল মৃত্যু তদন্ত জোরদারের আহ্বান কর্মশালায়
মেডিকোলিগ্যাল মৃত্যু তদন্ত জোরদারের আহ্বান

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং নির্ভরযোগ্য মৃত্যুতথ্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে দেশের মেডিকোলিগ্যাল মৃত্যুর তদন্ত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি কর্মশালায়। রাজধানীর একটি হোটেলে ৬ ও ৭ জুলাই দুই দিনব্যাপী মেডিকোলিগ্যাল ডেথ ইনভেস্টিগেশন (এমএলডিআই) বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মি।

তদন্তের গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ

ফারাহ শাম্মি বলেন, একটি কার্যকর মেডিকোলিগ্যাল মৃত্যু তদন্ত ব্যবস্থা সন্দেহজনক, অস্বাভাবিক ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এটি জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করে। প্রতিটি সন্দেহভাজন মৃত্যুর যথাযথ তদন্ত, কারণ নির্ধারণ ও নিবন্ধন জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য উপাদান।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ডিজিটাল সেবা এবং সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে মেডিকোলিগ্যাল মৃত্যু তদন্ত ব্যবস্থায় এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। প্রশিক্ষিত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের স্বল্পতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আধুনিক প্রযুক্তির অপর্যাপ্ততা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। ফলে কার্যকর তদন্তের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা ও জনগণের আস্থা

প্রধান অতিথি হাসপাতালে আনা মৃত ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে মরদেহের যথাযথ শনাক্তকরণ, সঠিক নথিভুক্তকরণ, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং মৃতের পরিবারের প্রতি মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ফারাহ শাম্মি।

পোস্টমর্টেম পরীক্ষা সম্পর্কে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভূমিকা

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য মৃত্যুর কারণসংক্রান্ত তথ্য জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন, রোগের প্রবণতা নিরূপণ, কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এটি দেশের সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।

মেডিকোলিগ্যাল মৃত্যু তদন্ত ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতীয় নির্দেশিকা ও মানসম্মত কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং সব কার্যক্রমে মানবিকতা, নৈতিকতা ও মর্যাদাবোধ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

সুপারিশ ও অংশগ্রহণ

কর্মশালার আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত সুপারিশগুলো দেশের মেডিকোলিগ্যাল মৃত্যু তদন্ত ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি একটি আধুনিক, কার্যকর ও মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসান।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ আহমেদ, হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অলগা জোস, সিআরভিএস কান্ট্রি লিড শুভশ্রী দাস, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম ও মো. মঈন উদ্দিন বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ভাইটাল স্ট্রাটেজিস, হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি এবং সুইস ট্রপিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়েছে।