হাটহাজারীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় কৃষক নেতাকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে কৃষক দলের এক নেতাকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ ফয়সাল (৩৪) একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মৃত আবদুল মালেকের ছেলে ছিলেন। তিনি হাটহাজারী উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের পটভূমি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফয়সাল তাঁর প্রতিবেশী ট্রাকচালক মোহাম্মদ জুয়েলের কাছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। এই পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল রাতে ফয়সাল যখন পাওনা টাকা চান, তখন জুয়েল তাঁকে সড়কে আসতে বলেন। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর জুয়েল ফয়সালকে ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাকচাপা দেন, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কৃষক দলের নেতার বক্তব্য
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনের বরাতে জানা যায়, নিহত ফয়সাল হাটহাজারী উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় এক বছর আগে ট্রাকচালক জুয়েল ফয়সালের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এরপর তিনি ৬৫ হাজার টাকা ফেরত দেন, কিন্তু বাকি ৩৫ হাজার টাকা শোধ করেননি। গতকাল রাতে ফয়সাল বাকি টাকা ফেরত চাইলে জুয়েল তাঁকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন এবং সেখানে গিয়ে ট্রাকচাপা দিয়ে পালিয়ে যান।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
এ ঘটনায় আজ সকালে নিহত ফয়সালের মা পারভিন আক্তার বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ট্রাকচালক জুয়েলকে আসামি করা হয়েছে, তবে তিনি পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, ঘটনার পর ট্রাকটি পুলিশ জব্দ করা হয়েছে, কিন্তু চালক জুয়েল এখনো পলাতক রয়েছেন। নিহত ফয়সালের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পাওনা টাকা নিয়ে সহিংসতার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি উঠছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।



