মুন্সিগঞ্জে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি ১১ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল
মুন্সিগঞ্জে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

মুন্সিগঞ্জে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন

মুন্সিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে একটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশন একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে আওয়ামী লীগপন্থি ১১ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনের মাঠে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এবং বিএনপিপন্থি প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়া ও কারণ

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মুজিবুর রহমান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আরেফিন সুমন এবং পোলিং কর্মকর্তা আমান উল্লাহ প্রধান শাহীন, মো. জাকারিয়া ইসলাম কাঞ্চন ও মাহবুবুর রহমান তুহিন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, ৫ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ ও তার সংশ্লিষ্ট সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস করা হয়।

এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিগোচর করায় মুন্সিগঞ্জ জেলা বারের প্রায় ৭৫ জন আইনজীবী এবং বৃহস্পতিবার নিহত ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবার থেকে আবেদন জমা পড়ে। দরখাস্ত পর্যালোচনা এবং আইনগত ভিত্তি যাচাইয়ের পর কমিশন নিশ্চিত হয় যে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে

প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ১১ জন প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী
  • সহসভাপতি পদে মো. ফিরোজ খান ও লাভলু মোল্লা
  • সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান সবুজ ও আবদুল হালিম সরদার
  • সহসাধারণ সম্পাদক পদে মো. নয়ন মিয়া
  • কোষাধ্যক্ষ পদে মো. মোস্তফা
  • দপ্তর সম্পাদক পদে প্রিন্স ফয়সাল আহমেদ
  • মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে মৌসুমী আক্তার
  • ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আবু হানিফ হিরু মোল্লা
  • কার্যকরী সদস্য পদে মো. শাহ আলী দেওয়ান নিশান

প্রতিক্রিয়া ও আইনগত যুক্তি

প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী আবদুল হালিম সরদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগে আমার কোনো পদবি নেই। কেউ দেখাতেও পারবে না। শুধু ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের প্যানেলে নির্বাচন করে যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলাম। এবার স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে এসেছিলাম। শুরু থেকে আমাদের নির্বাচন থেকে সরাতে বিভিন্ন কৌশলে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত চক্রান্ত করে প্রার্থিতাই বাতিল করে দিল।’

অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার মুজিবুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে আইনগত ভিত্তিতে ন্যায্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সংশোধিত আইন পর্যালোচনা করে কমিশন প্রমাণ পেয়েছে যে, এই প্রার্থীরা নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই দেশের সব আইনের আলোকে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচনের নতুন সময়সূচি

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই ১১ জন প্রার্থী ছাড়া অবশিষ্ট প্রার্থীদের জন্য ২৩ এপ্রিল যথানিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো প্যানেল ঘোষণা করা না হলেও বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের প্যানেলে নির্বাচন করা আইনজীবীরা এবার সাধারণ আইনজীবীর ব্যানারে প্রার্থী হয়েছিলেন।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থিতা বাতিল হওয়া সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।