এনটিআরসিএ নিয়োগ রিট ফাইল না নেওয়ায় অফিস সহায়ককে পুলিশে দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে করা রিটের ফাইল হাইকোর্টে না নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে অফিস সহায়ককে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সহায়ক মো. ইমরান হোসেনকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ
অপরদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে এই অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, এনটিআরসিএর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত রিটের ফাইল সরবরাহ না করায় কর্তব্যরত রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সরকারি বক্তব্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
এই ঘটনায় আদালতে দায়িত্বরত আইন কর্মকর্তারা গভীরভাবে মনঃক্ষুণ্ণ হন এবং অফিস সহায়ক মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। রিট আবেদনটি জনগুরুত্বপূর্ণ, অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত হয়। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন।
অনুসন্ধান ও ফলাফল
প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফাইল রিসিভকারী মো. মনিরুজ্জামান সরকার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, আদালতে দায়িত্ব পালনকারী অপর অফিস সহায়ক সম্রাট বাহর এবং নিয়োজিত ডিএজি খন্দকার বাহার রুমির সঙ্গে আলোচনা করার পর অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাইল আদালতে না নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার মানসে কোনও প্রলোভনে পড়ে এই কাজ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনও সংঘবদ্ধ দলের সদস্য হতে পারেন, যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতি করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করে থাকতে পারেন। অভিযুক্ত মো. ইমরান হোসেনের এই কার্যক্রম সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ পরিপন্থি এবং গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আরও তদন্তের আহ্বান
এছাড়া, এই কাজে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ ব্যক্তিরা জড়িয়ে আছেন কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টি অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনা রাষ্ট্রীয় কাজে অবহেলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের এই পদক্ষেপ শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এই রিট মামলা দেশের শিক্ষা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।



