ইলিয়াস আলী গুম মামলায় ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালকের কাছ থেকে পাওয়া গেছে যোগসূত্র
ইলিয়াস আলী গুম মামলায় ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালকের কাছ থেকে যোগসূত্র

ইলিয়াস আলী গুম মামলায় ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালকের কাছ থেকে যোগসূত্র পাওয়া গেছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম–সংক্রান্ত মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের কাছ থেকে কিছু কানেকশন বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তিনি ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে এই তথ্য প্রকাশ করেন, যা তদন্তের নতুন মোড় নির্দেশ করে।

গুমের ঘটনা ও তদন্তের অগ্রগতি

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন এবং এখনো তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। অন্যদিকে, আসামি শেখ মামুন খালেদ ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গুম, খুনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার শেখ মামুন খালেদকে ১৩ এপ্রিল দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যেখানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবিও)ও অংশ নিয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “মামুন খালেদকে ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ডিবিও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মামুন খালেদের কাছ থেকে ইলিয়াস আলীর গুম–সংক্রান্ত কিছু কানেকশন তাঁরা পেয়েছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইলিয়াস আলীকে গুমের তদন্তে জোরালো তৎপরতা চালানো হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে, যা প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে সহায়ক হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্তে নতুন তথ্য ও গোপনীয়তা

আমিনুল ইসলাম জানান, ইলিয়াস আলীকে গুমের বিষয়ে আরও কিছু তথ্য তাঁদের কাছে এসেছে, কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “তদন্ত শেষে ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে। তাঁরা এটাও বিশ্বাস করেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে পারবেন।” এই গোপনীয়তা তদন্তের গতি ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য মামলার সাথে সংযোগ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলায় কিছু সাক্ষীর বক্তব্য থেকে ইলিয়াস আলীকে গুমের ‘কানেকশনের’ কিছু এভিডেন্স বা তথ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি ইলিয়াস আলী মামলার সাথে অন্যান্য গুম মামলার সম্ভাব্য সংযোগ নির্দেশ করে, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে পারে।

এই তদন্তের অগ্রগতি বাংলাদেশে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।