আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ: পরিবারের অভিযোগ, আদেশদাতারা রেহাই পেলেন
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে পরিবারের অসন্তোষ

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে পরিবারের তীব্র অসন্তোষ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে রংপুরে সংঘটিত অভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যা মামলার রায়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন, যাতে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, এই রায়ে আদেশদাতারা রেহাই পেয়েছেন, যা ন্যায়বিচারের প্রতি একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেছে।

রায়ের বিস্তারিত ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে পুলিশ সদস্য আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুই শিক্ষককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, এবং প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এই রায়ে সন্তুষ্ট নন নিহত আবু সাঈদের পরিবার। তার বাবা মর্মন্তুদ কণ্ঠে বলেন, 'যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো, তারাই তো বেঁচে গেল। এ হত্যায় জড়িত আরও বড় বড় অপরাধীদের কোনো সাজা দেয়া হয়নি। আমার দাবি, কঠোরভাবে এর বিচার হোক।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, মাত্র দুজন পুলিশ সদস্যের ওপর দিয়ে এই রায় চালিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত বা সরকার দায়মুক্তি পেয়ে গেছেন। তারা দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, এ হত্যার আদেশদাতাদের মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে শুধুমাত্র পুলিশ সদস্য ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এর ওপর দিয়ে এ মামলার রায় চালিয়ে দেয়া হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের মূলনীতির পরিপন্থী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আপিলের সম্ভাবনা ও ঘটনার পটভূমি

পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেলে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের গতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি হত্যাকাণ্ডই নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

পরিবারের অসন্তোষ ও আপিলের ঘোষণা এই মামলাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই মুখ্য উদ্দেশ্য হিসেবে রয়ে গেছে।