জুলাই গণঅভ্যুত্থান হত্যাকাণ্ডে সাবেক মন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ চৌধুরীসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই তালিকায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও রয়েছেন, যা ঘটনাটির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ ও বিচারিক প্রক্রিয়া
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল তারিখে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি বিচারিক প্যানেল এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। মামলাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে, যাদের মধ্যে চারজন ইতিমধ্যে গ্রেফতার আছেন, এবং বাকি ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।
আসামিদের তালিকা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন:
- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী
- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল
- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন
- রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, মোহাম্মদ ফিরোজ, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, আজিজুর রহমান, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ, সুমন দে ও তৌহিদুল ইসলাম
আসামিরা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে আগেই অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
ঘটনার পটভূমি ও তদন্তের বিবরণ
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম। ঘটনার এক মাস পর, ১৮ আগস্ট তারিখে, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় নিহতের মা জোছনা বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ মোট ১১ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্ত শেষে, ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ এই ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যা বর্তমান গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
এই মামলাটি বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার রক্ষায় ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগে।



