কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইটার কারখানার অগ্নিকাণ্ড মামলায় তিন দিনের রিমান্ড
ঢাকার একটি আদালত সোমবার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলায় অভিযুক্ত ইমান উল্লাহর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদ শুনানি শেষে এই রিমান্ড আদেশ দেন।
অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির
পুলিশ অভিযুক্ত ইমান উল্লাহকে ৫ এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চান। আদালত প্রথমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে এবং রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য সোমবার তারিখ নির্ধারণ করে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও প্রাথমিক তদন্ত
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্তরের কাছে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভিতরে সংরক্ষিত গ্যাস লাইটারের দাহ্য উপকরণ বা কাঁচামাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এই ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে কয়েকজন দগ্ধ আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা কাজ করে।
মামলার অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ইমান উল্লাহ কারখানার কার্যক্রমের মূল হোতা ছিলেন, যা বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ অবৈধভাবে মজুদ করে পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, আরও জিজ্ঞাসাবাদ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ উন্মোচন এবং জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
শুনানির সময় প্রতিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন এবং অভিযুক্তের জামিন চান, অন্যদিকে অভিযোগপক্ষ এই আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অন্যান্য অভিযুক্ত ও মামলার বিস্তার
এই ঘটনার সূত্রে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. জুয়েল রানা ইমান উল্লাহসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন কারখানার মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম এবং তার পুত্র আহনাফ আকিফ আকরাম।
এই মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘন ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



