হাইকোর্টে রিট দায়ের: পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি
দেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস, স্বাধীনতা, সংবিধানিক অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির সম্ভাব্য ক্ষতির উদ্বেগ উল্লেখ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এই রিটে পহেলা বৈশাখে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রাকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন।
রিটে উল্লিখিত প্রতিবাদীগণ
রিট পিটিশনে প্রতিবাদী হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবদের। এছাড়াও ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের ডিনকেও প্রতিবাদী করা হয়েছে। রিটে তাদের বিরুদ্ধে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন, প্রচার, অনুমোদন বা সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য ও যুক্তি
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রিটকারী আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান উল্লেখ করেন যে, সরকার কখনও কখনও জনসম্পৃক্ততার কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করেছে, কিন্তু পরে আবার মূল নামে ফিরে গেছে। তিনি বলেন, এই সমস্যার চূড়ান্ত সমাধানের জন্যই রিট দায়ের করা হয়েছে। রিট পিটিশন অনুযায়ী, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন বাংলা ঐতিহ্য নয়, বরং এটি একটি অপেক্ষাকৃত নতুন উদ্যোগ যা ১৯৮৯ সালে 'আনন্দ শোভাযাত্রা' নামে শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পহেলা বৈশাখের উদযাপনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ধর্মীয় ও সংবিধানিক প্রশ্ন
রিটে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, বড় আকারের পাখি, মাছ ও প্রাণীর প্রতিকৃতি বহন করে 'মঙ্গল' বা 'কল্যাণ' কামনা করা ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এমন প্রার্থনা শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে নিবেদন করা উচিত। রিটে দাবি করা হয়েছে যে, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মোটিফ ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকগুলির সাথে যুক্ত, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রিটে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করতে পারে, যা আইনের সুরক্ষা ও জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সতর্কতা
রিটকারী আরও দাবি করেন যে, তিনি যাকে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট কার্যকলাপ বলে বর্ণনা করেছেন, তার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা অবৈধ এবং সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই সমস্যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি, জননিরাপত্তা ও জাতীয় স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলতে পারে। রিটে প্রতিবাদীদের পহেলা বৈশাখের সময় মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন, প্রচার, অনুমোদন বা কোনোভাবে সহায়তা প্রদান থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এই রিট পিটিশনটি দেশের সাংস্কৃতিক উদযাপন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধানিক অধিকারের মধ্যে একটি জটিল ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে। হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত মীমাংসা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



