আওয়ামী লীগ নেতা বি এম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় খালাস
বি এম মোজাম্মেল হকের চাঁদাবাজি মামলায় খালাস

ঢাকার একটি আদালত রবিবার আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠন সম্পাদক ও শariatপুর-১ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হককে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা থেকে খালাস দিয়েছে। ১৪তম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা আক্তার এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগ

মামলার বাদী ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মোজাম্মেল হক তাকে আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের মাধ্যমে ধানমন্ডির একটি অফিসে ডেকে পাঠান। অভিযোগে বলা হয়, মোজাম্মেল হক নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং তিন দিনের মধ্যে টাকা না দিলে জোরপূর্বক গুমের হুমকি দেন।

নির্বাচন পরবর্তী চাপ ও ব্যবসা বন্ধ

মামলার বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের পর সাবেক এমপি শariatপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও হুমকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে তার ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য করেন। এই ঘটনাগুলোই মামলার মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের কার্যক্রম ও সমঝোতা

মোজাম্মেল হকের আইনজীবী লিটন মিয়া আদালতে জানান, তার মক্কেলকে একটি "মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা" এর প্রেক্ষিতে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, মামলার বাদীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুসারে, মামলায় অভিযোগ গঠনের পর বাদী খলিলুর রহমান আদালতে তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন এবং স্পষ্টভাবে জানান যে মোজাম্মেল হক নির্দোষ। এই সাক্ষ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাবেক সংসদ সদস্যকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাদীর আদালতে বক্তব্য

এর আগে, ১ এপ্রিল তারিখে বাদী ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান আদালতে জানান, তিনি আসামীর সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছেন এবং মোজাম্মেল হকের খালাসের ব্যাপারে তার কোন আপত্তি নেই। আদালতের অফিস সহকারী সাইদুর রহমান এই উন্নয়ন নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের চূড়ান্ত রায়

বিচারক মাহমুদা আক্তারের আদালতে মামলার সকল পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করার পর এই রায় দেন। মামলার বাদীর সাক্ষ্য ও সমঝোতার বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বাদীর সাক্ষ্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির আইনি পরিসমাপ্তি ঘটে। আদালতের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মামলার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে এবং রায় কার্যকর হয়েছে। আইনজীবী লিটন মিয়া তার মক্কেলের খালাসকে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।