সাবেক উপদেষ্টার সহকারী সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: আদালতের কঠোর নির্দেশ
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ সোমবার (৩০ মার্চ) একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করেছেন। সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত যুব, ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির আবেদন ও অভিযোগের বিবরণ
এদিন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এসআই মো. আব্দুল হান্নান আদালতে একটি আবেদন পেশ করেন। আবেদনে মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি মোয়াজ্জেম হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) থাকাকালে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে শতশত কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করেছেন।
এসব অর্থ তিনি অবৈধ উপায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের বিষয়ে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। সিআইডির আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যে কোনও সময় বিদেশ গমণ করতে পারেন। অনুসন্ধানের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমনাগমণ রোধ করা বিশেষ প্রয়োজন।
পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা ও চিকিৎসার আবেদন
গত বছরের ২৪ মে একই আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। এরপর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যেতে গত ২০ জানুয়ারি তিনি আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
এই নতুন আদেশটি সিআইডির চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে বাধাহীন রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো গুরুতর প্রকৃতির এবং এগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রমকে জোরদার করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই ধরনের আদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



