মানবপাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড আদেশ
এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এই আদেশ দেন। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে পল্টন থানার মানবপাচারের অভিযোগের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য ও মামলার সংখ্যা
পুলিশের ভাষ্য মতে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট এগারোটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় ছয়টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলো বিভিন্ন অভিযোগে রুজু করা হয়েছে, যা তার বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা বাড়াচ্ছে।
এক-এগারোর ভূমিকা ও রাজনৈতিক জীবন
উল্লেখ্য, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে তাকে ধরা হয়। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। এই কমিটির অধীনই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। তখন পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হয়েছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসরে যাওয়ার পর তিনি একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য ছিলেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
এর মধ্যে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। তবে, পরে তিনি জাপায় যোগ দেন এবং দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ পান। আর লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করেন। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন তার কর্মজীবনে নতুন মোড় এনেছিল।
বর্তমান মানবপাচার মামলায় রিমান্ড আদেশ তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



