দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে ভোট গ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচিত পরিচালকরা
‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন পরিচালক পদে নির্বাচিত হন। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকেরা হলেন বেনজীর আহমেদ, মো. নূরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ কুমার সাহা, আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আবদুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. সরোয়ার হোসেন খান ও মো. আবদুল্লাহ হেল কাফি।
‘বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হলেন মো. রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আবদুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার।
সভাপতি নির্বাচন
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’—উভয় শ্রেণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরিচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে। তবে পরিচালকদের সভা কবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা
জানা গেছে, নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবার কেউ কেউ আছেন নিছক ব্যবসায়ী। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালক বেনজীর আহমেদ বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। রাশেদুল আলম জেলা যুবদলের আহ্বায়ক। তারেকুল ইসলাম স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। এ ছাড়া কাজী শফিকুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ হেল কাফি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, যদিও তাঁরা এখন পদে নেই।
ভোটগ্রহণ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিন পর ভোটদানের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত সাধারণ ভোটাররা। ভোট দেওয়ার পর সাম্য রহমান বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে এসেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সবাই খুশি। এমন গণতান্ত্রিক চর্চা যেন অব্যাহত থাকে।
পটভূমি
টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিন দশকের আগে। তার পর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকত, সেই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না।



