কেরানীগঞ্জে শিশু জিহাদ হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি আদালতের
শিশু জিহাদ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি

কেরানীগঞ্জে শিশু জিহাদ হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি আদালতের

কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিশু জিহাদ নামে এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এই আদেশ দেন। তদন্তে ভুক্তভোগী শিশু জিহাদকে জীবিত পাওয়ায় মামলাটিকে তথ্যগত ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা আদালতের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

মামলার পটভূমি ও তদন্তের ফলাফল

মামলাটি দায়ের করেছিলেন জিহাদের বাবা জহিরুল ইসলাম রাজু। তিনি জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে তার ছেলে নিহত হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা ও আরও ১২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে পুলিশের তদন্তে একটি চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে: শিশু জিহাদ মারা যায়নি; বরং তিনি জীবিত রয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই বদিয়ার রহমান তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অন্যত্র আহত হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এছাড়াও, তদন্তে পাওয়া যায় যে বাসস্থান ও আর্থিক প্রলোভনে তাকে মৃত দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে এই তথ্যগত অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের সিদ্ধান্ত ও যুক্তি

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর জানান, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করার পর দেখা গেছে—এটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের হলেও ভুক্তভোগী শিশু জিহাদ জীবিত রয়েছেন। তিনি কেবল আহত হয়েছেন এবং নিজেও আদালতে তা স্বীকার করেছেন। এই অবস্থায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালত মামলাটিকে তথ্যগতভাবে অসঙ্গত মনে করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন, যা ন্যায়বিচার ও সত্য প্রতিষ্ঠার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ

অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন:

  • সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  • আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
  • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
  • শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল
  • সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস
  • সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রমাণিত হয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। আদালতের এই রায় ন্যায়বিচার ও সত্য অনুসন্ধানের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলোর জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।