জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে গৃহবধূ ধর্ষণ: তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরে নৃশংস ধর্ষণ মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড রায়

জামালপুর সদরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্লা এলাকার ফারুক হোসেন (৩০), মনসুর আলী (২৭) এবং ফেরদৌস হোসেন (২২)। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই তিন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে।

মামলার বিস্তারিত ঘটনাক্রম

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই বিকালে ওই গৃহবধূ এবং তার স্বামী ব্যবসায়িক কাজে সদর উপজেলার রশিদপুর চৌরাস্তা এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখান থেকে রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত তিন জন তাদের গতি রোধ করে। তারা প্রথমে গৃহবধূর স্বামীকে একটি গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে। এরপর ওই নারীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই নৃশংস ঘটনার পরদিনই ওই গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত আজ আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

আদালতের রায় ও আইনি প্রক্রিয়া

জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি ফজলুল হক জানান, আদালত ভুক্তভোগী গৃহবধূসহ মোট চার জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। এই সাক্ষ্যগুলোর ভিত্তিতে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। দুপুরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্য আরেকটি ধারায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ছাড়া সব আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফজলুল হক, অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। এই রায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।