দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ আদেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত তার কারাগার থেকে মুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আদালতে শুনানি ও আইনজীবীদের ভূমিকা
আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু এবং ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তারা মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন, যা হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রহণ করে। আইনজীবীরা জানান, এই জামিন আদেশের মাধ্যমে খায়রুল হক আপাতত আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
মামলার পটভূমি ও পূর্বের ঘটনাবলি
গত বছরের আগস্ট মাসে বেআইনিভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুদক সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকসহ আটজনের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। এর আগে, গত ৪ মার্চ যুবদলকর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির চারটি মামলায় তাকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির তার বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই মামলাগুলো নিয়ে আইনি লড়াই চলাকালীন হাইকোর্টের সাম্প্রতিক জামিন আদেশ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার অংশ, যদিও এটি জনমনে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে আরও শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



