মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন মা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে তিন মাস কারাদণ্ড
বগুড়ার শেরপুরে এক মা তাঁর মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন, যা একটি দুঃসাহসিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই তরুণকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, যিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তরুণের পরিচয় ও পরিবারের অবস্থান
সাজা পাওয়া তরুণের নাম সোহেল রানা, যার বয়স ২৩ বছর। তাঁর মায়ের নাম জোসনা খাতুন এবং তাঁদের বাড়ি শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত। সাজা প্রদানের পর থানা–পুলিশের মাধ্যমে সোহেল রানাকে বগুড়া জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর শাস্তি ভোগ করবেন।
মায়ের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ও সাহসী সিদ্ধান্ত
জোসনা খাতুন তাঁর ছেলের মাদকাসক্তির বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, "আমার ছেলে সোহেল অন্তত তিন বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ছেলে নেশার টাকার জন্য তাঁদের মারধর করত এবং টাকা না পেলে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করত। এই নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে পরিবারটি থানা–পুলিশের কাছে সহায়তা নিয়েছে, এবং মা জোসনা খাতুনের মতে, নেশাগ্রস্ত ছেলে আটক হওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার এখন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভূমিকা
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, "সোহেল রানার মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে মাদকাসক্ত অবস্থায় তাঁকে তাঁদের বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে নেশার টাকা না পেয়ে সোহেল বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, যা পুলিশ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। আটকের পর সোহেলকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে, এবং পরে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই ঘটনা সমাজে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারের সদস্যদের সাহসী ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া স্থানীয়ভাবে আইনের শাসন জোরদার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



