চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে হাইকোর্টের রুল জারি
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। এই রুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের
এর আগে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। এই রিট পিটিশনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
অস্ত্র লুটের পরিসংখ্যান ও উদ্বেগ
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সন্ত্রাসী হুমকি ও মৌলিক অধিকার
রিটে আরও বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় জনগণের জীবনের জন্য ব্যাপক হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। এসব অস্ত্র বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়ায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সংবিধানের মৌলিক অধিকার ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের জীবন রক্ষায় আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রিটটি দায়ের করেন। এই রিটের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাইকোর্টের এই রুল জারি অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপের জবাবদিহিতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপের বিবরণ প্রত্যাশিত।



