ড. আসিফ নজরুল দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন, 'এক টাকাও নিইনি'
ড. আসিফ নজরুল দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করলেন

ড. আসিফ নজরুলের জোরালো অস্বীকার: 'দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা, এক টাকাও নিইনি'

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি 'এক টাকাও' দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রহণ করেননি। তার যাচাইকৃত ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগগুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অভিযোগের উৎস ও প্রতিক্রিয়া

ড. নজরুল তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই তাকে এবং তার কিছু সহকর্মীকে নিয়ে 'তথাকথিত' দুর্নীতির রিপোর্ট অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, 'সরকারে থাকাকালীন, তার আগে বা পরে—কখনোই আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আমি পুনরাবৃত্তি করছি, এক টাকাও দুর্নীতির মাধ্যমে নিইনি।' তার এই বক্তব্যে দুর্নীতির অভিযোগের প্রতি তার দৃঢ় অস্বীকৃতি ফুটে উঠেছে।

আর্থিক ও পেশাগত স্বচ্ছতার দাবি

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও দাবি করেছেন যে, তিনি দায়িত্ব পালনকালে কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেননি, নতুন সম্পদ অর্জন করেননি বা তার ট্যাক্স ফাইলিংয়ে কোনো সম্পদ গোপন করেননি। তিনি নেপোটিজম বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ড. নজরুল বলেছেন, তার মেয়াদে প্রায় ৫,০০০ আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের কেউই তার আত্মীয় ছিলেন না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় উন্নয়ন ও পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে বক্তব্য

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেছেন, উপদেষ্টা হিসেবে তিনি তার নিজের এলাকাকে অগ্রাধিকার দেননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, লালবাগ শাহী মসজিদের উন্নয়নের জন্য সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সীমিত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য সহায়তা পেয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এসব কাজ যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।

দুর্দশার মুখোমুখি ও বিশ্বাস

ড. নজরুল অভিযোগগুলিকে 'জঘন্য ও মিথ্যা' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত দুই দশক ধরে তিনি বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, সাম্প্রতিক দাবিগুলোও তাকে ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি যোগ করেছেন, 'আল্লাহ আছেন, এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।' তার এই মন্তব্যে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সান্ত্বনার প্রতিফলন দেখা যায়।

ড. আসিফ নজরুলের এই বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেক ব্যবহারকারী তার স্বচ্ছতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে অভিযোগগুলোর তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার বিষয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ ও প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, সঠিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।