সীতাকুণ্ডের শিশু হত্যা মামলায় আসামির স্বীকারোক্তি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের কন্যাশিশু ইরাকে গলায় ছুরিকাঘাতে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় একমাত্র আসামি বাবু শেখ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিনের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধির সান্ত্বনা ও প্রতিশ্রুতি
এদিকে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহত শিশুটির বাবা-মাকে সান্ত্বনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা জানান। মন্ত্রী বলেন, 'যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি শুধু মর্মান্তিক নয়, পৈশাচিক ঘটনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত। তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা জানানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা প্রয়োজন, তা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে। এটা নিহত শিশুর পরিবারের আর্থিক সংগতি–অসংগতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এ ধরনের অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব।'
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
এর আগে রোববার (১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাশের পাহাড়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তাদের প্রতিবেশী বাবু শেখ (৫০)। শিশুটির আর্তচিৎকারে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর শিশুটি মৃত ভেবে পাহাড়ের খাদে ফেলে চলে যান বাবু শেখ। অলৌকিকভাবে, শিশুটি গলাকাটা অবস্থায় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে থাকা চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কে উঠে আসে। সেখানে সড়কটিতে সংস্কারকাজে থাকা শ্রমিকেরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার দিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। গত সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
এ ঘটনায় রোববার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা করেছেন। শিশুটি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। ঘটনার পর ইকোপার্কের পাহাড়ে ওঠার সব কটি পথের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এরপর চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সড়কের একটি সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এরপর তাকে নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকা ধরে চন্দ্রনাথ পাহাড় পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে শিশুটির পরিহিত পোশাক এবং স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, শিশুটির পরিবার ও বাবু শেখের পরিবার প্রতিবেশী। পূর্ব বিরোধের জের ধরে বাবু শেখ হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরপর গত রোববার শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার দিলে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনা সমগ্র দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা জনগণের আশা জাগিয়ে তুলছে।



