রামপুরা গণঅভ্যুত্থান মামলায় রায় পিছালো, প্রসিকিউশন নতুন ডিজিটাল প্রমাণ জমা দিতে চায়
রামপুরা গণঅভ্যুত্থান মামলায় রায় পিছালো, নতুন প্রমাণ আবেদন

রামপুরা গণঅভ্যুত্থান মামলায় রায় ঘোষণা স্থগিত, নতুন ডিজিটাল প্রমাণের আবেদন

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা পিছিয়ে গেছে। প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করায়, আজ বুধবার (৪ মার্চ) নির্ধারিত দিন সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় দিচ্ছেন না।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের আবেদন ও শুনানি

আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন আবেদনটি দাখিল করে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, যিনি মামলায় রায় পিছিয়ে নতুন ডিজিটাল এভিডেন্স নেওয়ার আবেদন করেন এবং একইসঙ্গে চার সপ্তাহ সময় চান।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী না আসায়, ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণে অপেক্ষমাণ রয়েছে। দুপুরে এ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যা মামলার অগ্রগতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবেদনের পেছনের কারণ ও তদন্তে গাফিলতি

জানা গেছে, প্রসিকিউশন কিছু জটিলতার কারণে রায় যেন না দেওয়া হয়, সে জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছে। রামপুরার এ মামলায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে একটি হলো গুলি করার নির্দেশদাতা পুলিশ কর্মকর্তার কল রেকর্ড পাওয়ার পরও আসামি করা হয়নি।

এছাড়া নতুন আরও সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে, এবং এ জন্য রায় পিছিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যেই আবেদনটি করা হয়েছে, যা মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও আসামিদের অবস্থান

গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়, যেখানে প্রসিকিউশন দাবি করে যে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, এবং প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। একইসঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়, যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিজেদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচ জন, যার মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

ঘটনার বিবরণ ও মামলার ইতিহাস

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়, এবং এক পর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।

এ মামলায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন, এবং পরে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল, কিন্তু নতুন আবেদনের কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে।