পুলিশে ১৮০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ, আইনশৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠন
পুলিশে নতুন নিয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশে নতুন করে ১৮০ জন সার্জেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী জানান, এই পদগুলো পুলিশের শূন্য পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

আরও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের সম্ভাবনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়া গেলে পুলিশে অতিরিক্ত ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপটি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

উপপরিদর্শক ও সহকারী পুলিশ সুপার নিয়োগ

এছাড়া, উপপরিদর্শক (এসআই) এবং বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠন

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ৩১ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, এই কমিটি জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংঘটিত অপরাধগুলোর গভীর পর্যালোচনা করবে। বিশেষ করে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু পাচার, কিশোর গ্যাং অপরাধ, এবং মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে কমিটি।

উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির গঠন

উপজেলা পর্যায়ে ২২ সদস্যবিশিষ্ট আইনশৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা করা হয়েছে, এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এই কমিটিও উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংঘটিত অপরাধের পর্যালোচনা করবে। কমিটি প্রতি মাসে একবার সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় সাধন করবে, যা অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা এবং কমিটি পুনর্গঠনের পদক্ষেপগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।