রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ জালিয়াতির তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ জালিয়াতির তদন্ত নির্দেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ জালিয়াতির তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও স্বজনপ্রীতির নজিরবিহীন অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ জারি করেন। আদালত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

রিট আবেদন ও তদন্ত প্রক্রিয়া

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ জালিয়াতি সংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটকারীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাঈদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিটিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের গভীর তদন্ত করে দ্রুত ফলাফল উপস্থাপন করতে হবে।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও স্পর্শকাতর প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও, এখানে দক্ষ ও মেধাবী জনবল নিয়োগের পরিবর্তে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অদক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে (এনপিসিবিএল) ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক হাজার ৮০০ জনের বেশি জনবল নিয়োগ করা হয়, যাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে রাশিয়ার রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাল সনদ, ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ, ঘুষ এবং স্বজনপ্রীতির বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি জাল সনদ ব্যবহার করে স্থায়ী চাকরি প্রদানের অভিযোগও উঠেছে, যা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তদন্তের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই তদন্ত রূপপুর প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আদালতের নির্দেশনা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিচালনায় দুর্নীতি দমন ও দক্ষ জনবল নিয়োগের পথ সুগম করতে পারে। এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনা এবং দেশের শক্তি খাতের উন্নয়নে এই তদন্ত একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।