সিলেটে চার বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টায় হত্যা, ঘাতক জাকিরের জবানবন্দি
সিলেটে চার বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টায় হত্যা, ঘাতক জাকিরের জবানবন্দি

সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন সোনাতলা গ্রামে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে ঘাতক জাকির হোসেন। তিনি পুলিশকে বলেছেন- ‘ধর্ষণের চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে গলাটিপে হত্যা করি’।

ঘাতকের পরিচয় ও কৌশল

ঘাতক জাকির নিহত ফাহিমার প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে চাচা হন। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এবং লাশ গুম করার চেষ্টা করেন তিনি। গত সোমবার (১১ মে) রাতে জালালাবাদ থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করার পর মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের বক্তব্য

এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে খুনি জাকির অত্যন্ত ধূর্ততার পরিচয় দিয়েছে এবং সে এলাকাবাসীর সঙ্গে মিশে গিয়ে ফাহিমাকে খোঁজার নাটকও করেছে। এমনকি পুলিশ যখন এলাকায় গিয়ে তদন্ত ও তল্লাশি চালাচ্ছিল তখন জাকিরও পুলিশের পাশে থেকে ছদ্মবেশে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল- যাতে তাকে কেউ সন্দেহ না করে। স্থানীয়রা জানান, এলাকাবাসী ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করলে জাকিরও তাদের ভিড়ে মিশে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও জবানবন্দিতে জাকির জানায়, গত ৬ মে সকালে সে ফাহিমাকে ২০ টাকা দিয়ে দোকান থেকে দুটি সিগারেট আনতে পাঠায়। ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ইয়াবাসক্ত জাকির শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় এবং যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। শিশুটি ভয়ে চিৎকার করতে চাইলে বা বাধা দিতে গেলে একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং জানাজানি হওয়ার ভয়ে জাকির তাকে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর লাশটি একটি প্লাস্টিকের ব্রিফকেসে ভরে নিজের ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখে। দুই দিন পর লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে গত ৮ মে গভীর রাতে সেটি পাশের একটি ডোবায় ফেলে দিয়ে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলামত উদ্ধার

পুলিশ ঘাতক জাকিরের ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুটকেস, একটি ধূসর রঙের চাদর এবং ভিকটিমের রক্তমাখা বালিশ উদ্ধার করেছে। এছাড়া জাকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রীর ওড়নাও ব্যবহৃত হয়েছিল; যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

জনতার বিক্ষোভ

জাকিরকে গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ঘাতক জাকিরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ঘরবাড়ি তছনছ করে দেয়।

আইনি প্রক্রিয়া

অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের ধারাটিও চার্জশিটে যুক্ত করা হবে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।