পাবনার রূপপুরে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে আজ মঙ্গলবার। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি প্রবেশ করানো হয়েছে। এই অ্যাসেম্বলিগুলো চুল্লির কোর গঠন করে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও মানদণ্ড
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি জানান, এই কাজে প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি, পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে চুল্লিপাত্রের ওপরের অংশ স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে অসংখ্যবার পরীক্ষা করা হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুব শিগগির চুল্লিপাত্রকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নেওয়ার পর ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু ও পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ প্রশস্ত করবে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
প্রকল্পের বিবরণ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ায় এখন পুরোদমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হবে, যা আগামী মাসগুলোতে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



