সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের দুই মামলায় জামিন
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের দুই মামলায় জামিন

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনের পটভূমি

এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখে। আজকের জামিনের ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মামলা দুটির এজাহারে খায়রুল হকের নাম নেই। পাঁচ মামলায় জামিনের পর তাঁকে এই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে রুল দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।’

গ্রেপ্তার ও মামলা

গত ৩০ মার্চ যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যা পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ঘটে। অধস্তন আদালতে ব্যর্থ হয়ে গত রোববার হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন, যা আজ শুনানি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষ

খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ।

পূর্বের মামলা ও জামিন

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন এবং যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এছাড়া প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুদক মামলা করে।

পাঁচ মামলার মধ্যে চারটিতে গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিন দেয় এবং দুদকের মামলায় ১১ মার্চ জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে, যা গত ৮ এপ্রিল চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়। গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে জামিন বহাল রাখে।