সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, যাদের মা-বাবা পৃথিবী থেকে চলে গেছেন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। তিনি বলেন, মা-বাবা দুজনেই পৃথিবী থেকে চলে গেছেন, তাই মন খারাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের জন্য যত বেশি দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা যায়, তত বেশি তাদের আত্মা শান্তি পায়। তাই সন্তানদের উচিত মৃত মা-বাবার জন্য দোয়া, ইস্তিগফার ও দান করা।
মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মমতাময়ী মা মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা গত ৬ মে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সোমবার (১১ মে) বিকালে আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রীর বক্তব্য
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কেউ চিরদিন বেঁচে থাকব না। তবে যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মা-বাবার দেখাশোনা ও সেবার জন্য কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করতে হবে।
সচিবের বক্তব্য
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ। তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিজ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তার অনেক ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তিনি একজন আদর্শ মা হিসেবে নিজ সন্তানদেরও সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলেছেন। সচিব আরও বলেন, বেগম জেবুন্নেছা ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক, সদালাপী, মিতব্যয়ী ও বিনয়ী। মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ, বিশেষ করে দরিদ্র ও শিশুদের প্রতি সহানুভূতি ছিল অনুকরণীয়।
অন্যান্য বক্তা
দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব মরহুমার স্মরণে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু পরিবারের শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।
কুরআন খতম ও দোয়া
বেগম জেবুন্নেছার আত্মার মাগফিরাত কামনায় ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত ২০ জন এতিম হাফেজ শিশু ৬ বার কুরআন খতম করেন। সবশেষে মন্ত্রীর মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন ধানমন্ডি সোবহানবাগ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মাসুম বিল্লাহ।



