লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের অভিযোগে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুর যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে মসজিদ কমিটির পক্ষে এ মামলাটি দায়ের করেন সভাপতি আবদুল বাতেন বাবুল।
মামলায় বিবাদীরা
মামলায় ৮৭ জন স্থানীয় দখলদার ছাড়াও কিছু পরিমাণ জমি খাসখতিয়ানভুক্ত হওয়ার বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলনগরকেও বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত
আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী এমরান হোসেন মাসুম। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী দেওয়ানি মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছেন। আগামী দুই দিন পর আমরা ওই জমির ওপর নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধে আদালতে আর্জি জানাব। আমরা আশা করছি আদালত আমাদের আর্জি শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আদেশ প্রদান করবেন।
জমির ইতিহাস
মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর মার্টিন মৌজার ২.৩৮ একর ভূমির আদি মালিক ছিলেন ছায়েদল হক। ১৯৫৬ সালে ওই জমি ক্রয় করেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম মৌলভী ছিদ্দিকউল্যা। পরবর্তীতে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে তিনি বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ৬৯ শতাংশ জমি মসজিদ ও ঈদগাহের নামে ‘ওয়াকফ ফি-সাবিলিল্লাহ’ দান করেন। আরএস খতিয়ানেও এই জমি মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।
জালিয়াতির অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র মসজিদের জমি ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবহার শুরু করলেও পরবর্তী জরিপে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। তারা জরিপ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গোপনে মসজিদের জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেয়। এমনকি কিছু জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত (সরকারি) হয়ে যায়। বর্তমানে মসজিদের প্রায় ১৯ শতাংশ জমি স্থানীয় আব্বাস উদ্দিন, সোহেল, সোহাগ, শরীফুল ইসলাম ও ছিদ্দিক মেম্বারসহ ৮৭ জন অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
মসজিদ কমিটির বক্তব্য
মসজিদ কমিটির দাবি, গত ১৯ এপ্রিল এক সভায় দখলদারদের জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। উল্টো অভিযুক্ত ছিদ্দিক মেম্বার মসজিদের জমিতে একতলা ভবন নির্মাণ শেষ করে বর্তমানে দ্বিতীয়তলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার নালিশি সম্পত্তির সরকারি মূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধরা হলেও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এর মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
আইনজীবীর বক্তব্য
বাদীপক্ষের আইনজীবী এমরান হোসেন মাসুম জানান, ইসলামি আইন ও রাষ্ট্রীয় বিধান অনুযায়ী ওয়াকফকৃত সম্পত্তি কখনো মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। ‘একবার ওয়াকফ সর্বদা ওয়াকফ’ এই নীতি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। মামলায় নালিশি জমির স্বত্ব ঘোষণা, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং খাস দখল পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মসজিদ কমিটির সভাপতির বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল বাতেন বাবুল বলেন, মসজিদের পবিত্র সম্পদ রক্ষায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।



