রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন রাতেই মোটরসাইকেলসহ এক তরুণকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আজ সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
আটক ও মামলা
আটক তরুণের নাম নাহিদুল ইসলাম (২০)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। কয়েক মাস আগে রায়হান শেখ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার রাতে কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুল। পরে দুই বন্ধু মিলে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাত ১২টার দিকে কিশোরীকে এলাকায় নামিয়ে দেন তারা। স্থানীয় লোকজন নাহিদুলকে আটক করে মারধর করে এলাকায় আটকে রাখেন।
অভিযুক্তের দাবি
অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তার বন্ধু রায়হান কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে। তিনি শুধু ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ধর্ষণ করেননি বলে জানান।
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় মাতুব্বর ফরিদ মুন্সি বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি মেয়ে ও একটি ছেলেকে ধরে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর প্রাথমিকভাবে দুই পরিবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গতকাল সকালে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়।
পুলিশের কার্যক্রম
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেয়। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রধান আসামি রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।



