মাইলস্টোন কলেজের দুই শিক্ষার্থী মাফি বি সরকার ও মেহেদী হোসেন রাফসান প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় ঢাকার উত্তরার তুরাগ থানা ও গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
তুরাগ থানার জিডির তথ্য
তুরাগ থানায় দায়ের করা জিডি অনুযায়ী, মাইলস্টোন কলেজের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাফি বি সরকার গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটা থেকে নিখোঁজ। অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একই দিন একই সময়ে মাইলস্টোন কলেজের আরেক ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মেহেদী হোসেন (রাফসান) নিখোঁজ হয়েছে।
পুলিশের ধারণা
পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ দিন আগে এই দুই কিশোর একই সঙ্গে নিখোঁজ হয়। তারা দুজন বন্ধু এবং একই কলেজে পড়াশোনা করে। নিখোঁজের আগে তারা বাড়িতে মুঠোফোন রেখে গেছে। পুলিশের ধারণা, তারা স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়েছে। তবে কী কারণে নিখোঁজ হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে, তারা দুজনই স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায় বলে বিভিন্ন সময় বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি
তুরাগ থানার জিডির তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাফি বি সরকার লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল। এ নিয়ে কথা বলার কারণে পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার অভিমান থাকতে পারে। সে কারণে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারে। তবে তার নিখোঁজের অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের বক্তব্য
মাফি বি সরকারের বাবা বিপ্লব সরকার প্রথম আলোকে বলেন, মেহেদী লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল, এটা সত্য। তবে পরিবারের কারও সঙ্গে এ নিয়ে তার মনোমালিন্য হয়নি। মেহেদী কেন, কাদের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে, মেহেদী হোসেনের পরিবারের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেহেদী হোসেন লেখাপড়ায় খুবই মনোযোগী ছিল। কারও সঙ্গে কোনো মনোমালিন্য হয়নি। সে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়েছে কি না, নাকি অন্য কেউ অপহরণ করেছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নিখোঁজের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত কিছু জানাতে পারেনি।



