সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে গেছে। এ নিয়ে ১২৬ বারের মতো তারিখ পেছাল। আগামী ১৮ জুন নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে শুনানি
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম নতুন দিন নির্ধারণ করেন। মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার ইতিহাস
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশ
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
এদিকে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্টের দেওয়া সময় ইতোমধ্যেই শেষ হয়। এ অবস্থায় তদন্ত চলমান ও অগ্রগতি আছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ নয় মাস সময়ের আরজি জানায়।
গত ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল শুনানি নিয়ে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর আদেশের জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। তবে উচ্চ আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দাখিল করেনি। গত ২৩ অক্টোবর মামলার তদন্ত শেষ করতে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট।
গ্রেপ্তারকৃতদের অবস্থা
উল্লেখ্য, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির ও তানভীর রহমান খান। বর্তমানে তানভীর ও পলাশ জামিনে এবং বাকিরা কারাগারে আছেন।



