মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল: হাইকোর্টের রুল
মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল: হাইকোর্টের রুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মনিরা শারমিনের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ রুল দেন। নির্বাচন কমিশনসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটে জামায়াত জোট থেকে মনিরা শারমিনসহ ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার আইন অনুযায়ী তিন বছর পার না হওয়ায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরার মনোনয়নপত্র গত ২৩ এপ্রিল বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রেখে নির্বাচন কমিশন গত ২৭ এপ্রিল মনিরার আপিল খারিজ করে দেন। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করেন মনিরা শারমিন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে শুনানি

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান এবং আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের তিন বছর অতিবাহিত না হলে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন উল্লেখ আছে। কিন্তু মনিরা শারমিন ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে নিজেই তাঁর চাকরির অবসান ঘটান। এ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ওই বিধান প্রযোজ্য হবে না—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন। মনিরা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হতে পারছেন না। তবে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত হয়েছে কি না—রুল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত হতে পারে।

জামায়াত জোটের অন্যান্য প্রার্থী

জামায়াত জোট ১৩টি নারী আসন পায়। এর মধ্যে জোটের ১২ জন প্রার্থী শপথ নেন। তবে এই জোট থেকে ১৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে জোটের এক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাছাইয়ে বাতিল হয়। আর নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় জোটের আরেক প্রার্থী নুসরাতের মনোনয়ন প্রথমে গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়, বাছাইয়ে তা বৈধ হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম আজ শপথ নিয়েছেন।