ভুয়া সনদে ২০ বছর চাকরি, ১৪ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ
ভুয়া সনদে ২০ বছর চাকরি, ফেরতযোগ্য ১৪ লাখ টাকা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এনটিআরসিএর ভুয়া নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে চাকরিকালে গ্রহণ করা ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই অর্থ এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিবরণ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা ২০০৬ সালে ওই বিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের ২০১৯ সালের এক পরিদর্শনে তার নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে। তবে অভিযোগের পরও দীর্ঘ সময় কোনও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এনটিআরসিএর চিঠি

পরবর্তীকালে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে তার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে এনটিআরসিএ জানায়, তার সনদটি সঠিক নয়। এতে বলা হয়, তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য প্রাপ্য নন। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে গ্রহণ করা ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্ত শিক্ষিকার বক্তব্য

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা বলেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে সনদ পেয়েছেন। তবে অডিট প্রতিবেদনে কেন তা ভুয়া বলা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে সনদটি ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের পদক্ষেপ

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক বলেন, বিষয়টি জানার পর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগটি যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।