সিলেট মহানগরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমাবেশ ঘিরে জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। শনিবার (২ মে) বিকাল ও সন্ধ্যায় মহানগরীর কোতোয়ালি থানার জেলা স্টেডিয়াম এলাকা এবং আম্বরখানা পয়েন্টের একটি আবাসিক হোটেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার অভিযানের বিবরণ
রবিবার (৩ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৯-এর সিইও উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে ছিনতাইকারীরা সাধারণ মানুষের মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব।
ছিনতাই পরিকল্পনার খবর
র্যাব জানায়, সম্প্রতি সময়ে সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়। এর মধ্যে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। তখন সেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমাবেশের আয়োজন চলছিল। পরে সেখানে অভিযান চালালে সন্দেহভাজন ওসব ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ঘিরে ফেলে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও আরও গ্রেফতার
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে বিপুল জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আম্বরখানা পয়েন্টের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছয়টি ছুরি, ব্লেড এবং ছিনতাইকৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের তালিকা
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: নারায়ণগঞ্জের নন্দীপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মো. রনি (২৪), একই এলাকার সিরাজের ছেলে মো. রাসেল (২৮), ওমর আলীর ছেলে আবুবকর (২৪), বাচ্চু ভূঁইয়ার ছেলে মো. জিহাদ হোসেন (২৮), জামাল হোসেনের ছেলে মো. সিয়াম হোসেন (২১), কাশিপুর এলাকার মৃত রহমান আলীর ছেলে মো. নুর ইসলাম (৪০), দেওভোগ ভূঁইয়ারবাগ এলাকার মুকুল কাজীর ছেলে মো. নাজমুল ইসলাম (২৬), বন্দর থানার চন্দিতলা কবরস্থানপট্টির রতন ব্যাপারীর ছেলে শাহজালাল ব্যাপারী (২৯), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মারুরারচকের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. অপু (৩২) এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদখানির মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আজিজুর রহমান (২৪)।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও পূর্ব ইতিহাস
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তারা আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



