ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মালিকানাধীন দ্বিতল সেন্টমার্টিন পরিবহনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে অনুমোদনহীন দ্বিতল পরিবহনটি (ঢাকা মেট্রো বি-১২-২৮৮১) চলাচলের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট দায়েরের বিবরণ
রবিবার (২ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারিকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে কী কী নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে
রিট আবেদনে সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোকে স্পিড লিমিটের বাইরে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাসের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স সংক্রান্ত কিউআর কোড স্থাপন, বারবার দুর্ঘটনার শিকার সড়ক-মহাসড়কের কাছাকাছি স্থানগুলোতে ফায়ার সার্ভিস সদস্য, হাইওয়ে এবং স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি তাৎক্ষণিক উদ্ধারকারী টিম গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইফাদ মোটরসের মালিকানাধীন সেন্টমার্টিন পরিবহন দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম মিয়া বাজার থানাধীন এলাকায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পার্শ্ববর্তী জমিতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মুহূর্তেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভয়ে যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরদিন সকলে বাসটি থেকে সকল যাত্রীকে বের করে আনা হয়। ওই দুর্ঘটনায় রিটকারী আইনজীবীর বাম পাশের পাঁজরের পাঁচটি হাড়ে ফ্রাকচারসহ মানসিক ও শারীরিক নানান জটিলতা দেখা দেয়। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে থেকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। এতে করে রিটকারী আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হন।
আইনি প্রক্রিয়া
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের প্রতি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে, সে নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন এই আইনজীবী। রিটে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জনস্বার্থে উপরোক্ত নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।



