ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে গতকাল নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ লিখিতভাবে হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে ইসির কর্মকর্তারা এসব কথা জানান।
গত ২১ এপ্রিল ছিল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সেদিন বিকাল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। তবে সেদিন নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর ইসির কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন নুসরাত। ইসি কর্মকর্তারা জানান, নুসরাত ইসির ডেসপাস শাখায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি, নথি-জাত করে রাখা ছিল।
সোমবার হাইকোর্ট সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়।
হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে ইসি কী করবে— জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করবো। আমরা কোনো আপিলে যাবো না। কেননা মামলায় আমাদের তো পক্ষভুক্ত করা হয়নি।”
নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে কিনা জানতে চাইলে রহমানেল মাছউদ বলেন, “তার মনোনয়নপত্রটি নির্বাচন কমিশনের কাছে আছে। আদালতের আদেশটি এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের লিখিত আদেশ না আসা পর্যন্ত আমরা কিছু করবো না।”
এদিকে এই বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম-সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই কেসের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশটি এখনও আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। কোর্টের আদেশের অনেক গ্রামার আছে।”
নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র ইসি জমা নিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটি ইসির কাছে নথি-জাত করা হয়েছে। তারা দেরি করে দেওয়াতে এটা ইসির ডেসপাস শাখায় ছিল। পরে আমি তার মনোনয়নপত্র পেয়েছি।”
নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ওই একটি আসনের কী হবে, পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হবে নাকি নুসরাতের মনোনয়নপত্র ইসি যাচাইয়ের জন্য গ্রহণ করবে— জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “৪৯টি মনোনয়নপত্রে আপাতত কোনো লিগ্যাল ইস্যু নেই। আমরা কোর্টের আদেশের অপেক্ষায়। কোর্ট যেভাবে বলবে, সেভাবে আমরা ব্যবস্থা নেবো।”
উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।



