ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও সংহতি প্রকাশ করেন।
ডাকসু নেতার বক্তব্য
মানববন্ধনে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও অনুষদে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এসব সেলের কার্যকারিতা নেই। প্রাথমিক অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কার্যকর কোনো ফলোআপ হয় না। তিনি আরও বলেন, 'এ ধরনের সেলে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকা জরুরি, যাতে অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকে। মিমো যে সিস্টেমের দিকে আঙুল তুলে গেছে, তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সুইসাইড নোটে ইঙ্গিত দেওয়া ব্যক্তিরও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।'
বিভাগীয় চেয়ারম্যানের বক্তব্য
বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, 'শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত। বিভাগ থেকে যতটুকু সম্ভব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ভিসি ও প্রো-ভিসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।'
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক কর্তৃক মানসিক ও ব্যক্তিগত নিপীড়নের পরিবেশের কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের দাবি
মানববন্ধনে মাস্টার্স শিক্ষার্থী রাফিউল রকি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো:
- অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও উম্মে হানীর বিষয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ
- কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন
- অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী চাকরিচ্যুতি
- শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন
- তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের এনওসি বন্ধ রাখা
- মিমোর পরিবারের আইনি সহায়তার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করা এবং কোনো চাপ সৃষ্টি না হওয়া নিশ্চিত করা
- দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের বাইরে অযাচিত যোগাযোগ বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা কলা ভবনের গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং পরে উপাচার্য ও প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।



