ভাইরাল ভিডিওর পর বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরালেন প্রধান বিচারপতি
ভাইরাল ভিডিওর পর বিচারপতি মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরানো

ভাইরাল ভিডিওর পর বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরালেন প্রধান বিচারপতি

কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া

সুপ্রিম কোর্টের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি বিচারকাজ পরিচালনার জন্য যে ৬৩টি বেঞ্চ গঠন করেছেন, সেখানে বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে কার্যত বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে, যা বিচার বিভাগীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা

গত ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের অনুষ্ঠানে বিচারপতি আব্দুল মান্নান অংশ নেন এবং সেখানে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বিচারপতি হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে হুমকি প্রদান করেন এবং একটি বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক জনসমালোচনার সৃষ্টি করে এবং বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারপতি মান্নানের পেশাগত পটভূমি

বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নান ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান, যা তার আইনী পেশায় একটি উল্লেখযোগ্য পদোন্নতি ছিল। এর আগে তিনি পিরোজপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে তার কাজের অভিজ্ঞতা ছিল ব্যাপক। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা তার পেশাগত জীবনকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং এটি বিচারকদের আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ স্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভাইরাল ভিডিওর মতো ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে এমন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া আধুনিক যুগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও শৃঙ্খলা প্রয়োগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।