তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন: আইসিটিতে শুনানি নির্ধারণ
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জামিন চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আবেদন করেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন এই আবেদনটি জমা দেন। এ সময় আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন। আদালত এই আবেদনের শুনানির তারিখ হিসেবে ২৬ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে, যা আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ও মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে চারটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
আগের জামিন আবেদন ও আইনি যুক্তি
এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মে তারিখে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিনের একটি আবেদন ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দিয়েছিল। তবে এবারের আবেদনে তার আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধারা উল্লেখ করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৯(৫) ধারা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক তদন্ত এক বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হয়, তাহলে আদালত চাইলে আসামিকে জামিন প্রদান করতে পারে।
এছাড়াও ওই আইনের ৩৭ ধারা মোতাবেক, অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার পর প্রসিকিউশন যদি তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ, দলিল, সাক্ষ্য, ঘটনা এবং প্রাইমাফেসি কেস উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো এবারের জামিন আবেদনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
ব্যক্তিগত অবস্থা ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত, যার বয়স এখন ৮৪ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রয়েছেন, যা তার স্বাস্থ্য অবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার প্রাক্কালে তিনি মেহেরপুরে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুজিবনগর সরকার গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে তার স্বাস্থ্য অবস্থা এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান জামিন আবেদনের পক্ষে অতিরিক্ত যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের শুনানিতে এই সমস্ত দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



