তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার, সাবেক সেনা কর্মকর্তার তিন দিনের রিমান্ড
তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার, সাবেক সেনার রিমান্ড

তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার: সাবেক সেনা কর্মকর্তার তিন দিনের রিমান্ড

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ওই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, যা এই দীর্ঘদিনের মামলায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিস্তারিত বিবরণ

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন হাফিজুর রহমান (৫২), যিনি সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় তাঁর নিজ বাসা থেকে পিবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার বিকেলে হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলেও, শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে তনুর পরিবার, তাঁর বাবা, মা ও ভাই উপস্থিত ছিলেন এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ

এই মামলার সূত্রপাত ২০১৬ সালের ২০ মার্চ, যখন তনু কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ স্পষ্টভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যা মামলাকে আরও জটিল করে তোলে। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানায়, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে।

তদন্তের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে হাফিজুর রহমান ছাড়াও অপর দুজন সাবেক সেনা সদস্য সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমের নাম উল্লেখ ছিল।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দাবি করেছেন যে, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, বরং জাহিদ হওয়া উচিত, কারণ ঘটনার শুরু থেকেই এই নামটি আলোচনায় এসেছে। এই বিভ্রান্তি তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ডিএনএ রিপোর্টকে শেষ ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং বর্তমান গ্রেপ্তার ও রিমান্ড মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশা জাগিয়েছে। পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।