তনু হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের অগ্রগতি: আদালতের নির্দেশে তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর হত্যা মামলায় নতুন করে মোড় নিচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়া। গত ১৬ দিন আগে আদালত তিন জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এবং বুধবার (২২ এপ্রিল) ১০ বছর পর প্রথম গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার হাজিরা ও নতুন নির্দেশনা
গত ৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হলে নতুন করে সন্দেহভাজন তিন জনের ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পর সোমবার (৬ এপ্রিল) ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। তিনি মামলা তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন, যা মামলার গতিপথ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাদী পক্ষের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ
সেদিন মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন— বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো।’’ তার এই দাবির পর খুব দ্রুতই ফলাফল দেখতে শুরু করেছেন বলে মনে হচ্ছে, কারণ তদন্তে নতুন গতি এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ব্যাখ্যা ও পূর্ববর্তী ডিএনএ প্রোফাইল
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘আগেই তনুর ব্যবহার করা কিছু কাপড় থেকে তিন জন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। সেগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছেন, সন্দেহভাজন তিন জনের ডিএনএ করতে। ওই তিন জন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।’’ এই তথ্য মামলার জটিলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী তদন্ত প্রক্রিয়াকে তুলে ধরে।
তনু হত্যার পটভূমি ও মামলার ইতিহাস
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর নিজ বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
- শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনও রহস্য বের করতে পারেনি।
- সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
- গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান।
- সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
এই মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচার ব্যবস্থা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতিফলন ঘটাচ্ছে, এবং নতুন ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশনা আশা জাগাচ্ছে যে এবার হয়তো ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।



