প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে বগুড়ায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন
বগুড়ায় ই-বেইলবন্ড উদ্বোধন, জামিন প্রক্রিয়া ডিজিটাল

বগুড়ায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলনকক্ষে সুইচ টিপে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা ও কুষ্টিয়া—সাতটি জেলায় একযোগে অনলাইনে জামিননামা দাখিলের পদ্ধতি চালু হয়েছে।

ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ই-বেইলবন্ড

বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ই-বেইলবন্ড পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর—এই নয়টি জেলায় ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। নতুন সাত জেলা যোগ হওয়ায় মোট জেলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে।

ই-বেইলবন্ডের সুবিধা ও কার্যকারিতা

ই-বেইলবন্ড পদ্ধতিতে বিচারকের স্বাক্ষরের পর জামিননামা বা বেইল বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে। এই প্রক্রিয়ার ফলে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ এক দিনের মধ্যেই মুক্তি পাবেন। মধ্যবর্তী অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বিলুপ্ত হবে, যা সময় সাশ্রয় করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া, কে কখন স্বাক্ষর করছেন, তা ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, যার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। বিচারপ্রার্থীরা অপ্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের যাতায়াত খরচ হ্রাস পাবে এবং সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয় সাশ্রয় হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: ন্যায়শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ—এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় করে দেশে ন্যায়শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের শাসন মিলবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশে ন্যায়শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আদালত হয়রানির জায়গা নয়; বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থল—এমন বিশ্বাস দৃঢ় হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স দূর হবে।’ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন যে, ন্যায় এবং আস্থার জায়গা হিসেবে বিচার বিভাগকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে।

দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় জনগণের হয়রানি লাঘব করতে সরকার প্রশাসন ও বিচারপ্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের অংশ হিসেবে ই–বেইলবন্ড বাস্তবায়ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সব আদালতে ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু করা গেলে জনগণের বিচার প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও বৈষম্য দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহায়ক হবে।

ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে হয়রানি হ্রাস

ই–বেইলবন্ড জনগণের অহেতুক হয়রানি ও দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে জেলখানায় পৌঁছানো পর্যন্ত আইনজীবী, মহুরি, ম্যাজিস্ট্রেট, পিয়নসহ নানা পরিক্রমায় কমপক্ষে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালুর পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে কিছু সময়ের মধ্যে জামিননামা পৌঁছে যাবে।

এ কারণে বর্তমান সরকার সারা দেশে সব আদালতকে ই–বেইলবন্ড পদ্ধতির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগ বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দ্রুত ও স্বচ্ছ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।