যশোর শহরতলির শেখহাটি তমালতলা এলাকায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে স্বামীর ছুরির আঘাতে স্ত্রী নিহত হয়েছেন। একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছেন স্বামী নিজেও। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতের পরিচয়
নিহত ছামিনা আক্তার (১৯) যশোর সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী সোহানুর রহমান সুজন (২৪) টাঙ্গাইল জেলার শান্তিনগর এলাকার সিরাজুল শেখের ছেলে। বিয়ের আগে তাঁরা মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন ছিলেন। তাঁরা যশোর শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সোহানুর পুলিশের হেফাজতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, সকালে সোহানুরের সঙ্গে ছামিনার কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় বাড়িতে থাকা ছুরি দিয়ে সোহানুর ছামিনাকে আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছামিনাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সোহান একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশের বক্তব্য
তালবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানিম ইসলাম জানান, বিয়ের এক মাস পর সোহানুর বিদেশে চলে যান। এক মাস পর দেশে ফিরে আসেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। বাড়িতে ফেরার পর প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মারামারি হতো। এ অবস্থায় তিনি আবারও বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যে সকালে দুজনের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে সোহানুর স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি দিয়ে জখম করেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের হেফাজতে সোহানুরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম বলেন, ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
স্বজনদের বক্তব্য
নিহত ছামিনার মামা পিয়াস বলেন, ‘সোহান মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা নিয়ে প্রায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ হতো। আজ সকালে সোহান ছুরি মেরে ছামিনাকে হত্যা করেছে।’
তদন্ত চলছে
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



